স্থায়ী ঠিকানা
বর্তমান ঠিকানা
আবাসন সংক্রান্ত তথ্য
ছাত্রের অঙ্গিকারনামা
আমি সহীহ ইলমে দ্বীন হাসিলের প্রত্যাশায় অত্র মাদরাসার একজন শিক্ষার্থী হওয়ার সুযোগ লাভের আবেদনে ওয়াদা করিতেছি যে—
১। আমি একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভ ও পরকালের নাজাতের উদ্দেশ্যে দ্বীনি ইলম হাসিল করিব। জীবিকা উপার্জনের অবলম্বন হিসেবে উহাকে ব্যবহার করিব না।
২। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বীদায় বিশ্বাসী হয়ে রাসূল সাঃ-এর আদর্শ মোতাবেক নিজের জীবন পরিচালনা করিব।
৩। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মাদরাসার মসজিদে জামাআতের সাথে তাকবীরে উলার সহিত আদায় করিতে হইবে। অন্যথায় উপযুক্ত শাস্তির সম্মুখীন হইতে হইবে।
৪। মাদরাসার বর্তমানে এবং ভবিষ্যতের সকল আইন-কানুন যথাযথ মানিয়া চলিতে সচেষ্ট থাকিব।
৫। সর্বদা নিজে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকিব এবং আমার আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখিব। মাথার চুল ও হাত-পায়ের নখ ছোট রাখিব।
৬। হুজুরের অনুমতি ব্যতীত কখনো মাদরাসার চত্বরের বাহিরে যাইব না।
৭। একনিষ্ঠভাবে রীতিমতো পড়াশোনা করিব, অনর্থক সময় নষ্ট করিব না। মাদরাসার সকল ছাত্রদের সঙ্গে মিলিয়া-মিশিয়া থাকিব। কখনো তাহাদের সাথে ঝগড়া-বিবাদ করিব না এবং কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক স্থাপন করিব না।
৮। মাদরাসার সাফল্য, উন্নতি ও সুনাম-সুখ্যাতির জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকিব। মাদরাসার কল্যাণে কখনো কোনো খেদমতের প্রয়োজন দেখা দিলে তাহা স্ব-আগ্রহে আঞ্জাম দিব।
৯। মাদরাসার আসবাবপত্র যথাযথ হেফাজত করিব। মাদরাসার পানি, পাখা, লাইট ইত্যাদি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হইব এবং অপচয়ের বিষয়ে সতর্ক থাকিব।
১০। মাদরাসার সকল আসাতিযায়ে কিরামের যথাযথ ইজ্জত, সম্মান ও খেদমত করিব এবং মাদরাসার খাদিম ও কর্মচারীবৃন্দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করিব। তার বিপরীতে তাহাদের সাথে বা কোনো মুরব্বির সাথে বেয়াদবি করিলে যেকোনো শাস্তি মেনে নিব।
১১। মাদরাসায় থাকা অবস্থায় কোনো মোবাইল বা খেলনা সামগ্রী ব্যবহার করিব না, টিভি, সিনেমা ইত্যাদি দেখিব না।
১২। ইজতেমাঈ আমল যথা: নামাজ, তা’লীম, ঘুম, গোসল, খানাপিনা ইত্যাদি গুরুত্বের সাথে যথাসময়ে আদায় করিব।
১৩। অন্যের জিনিসপত্র অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করিব না এবং কারো কাছে কোনো কিছু চাইব না, চাওয়ার বাহানাও করিব না।
অভিভাবকের অঙ্গিকারনামা
১। অভিভাবক সম্মেলনে যথাসময়ে আপনাকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে।
২। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত সরাসরি শিক্ষার্থীর সাথে সাক্ষাৎ করিলে তাহা প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গ বলিয়া বিবেচিত হইবে।
৩। নির্ধারিত ছুটি ছাড়া যখন-তখন বাসায় নেওয়া যাবে না এবং পরিচিত অভিভাবক ব্যতীত কোনো শিক্ষার্থীকে যেতে দেওয়া হবে না।
৪। মাদরাসার নেগরানীর ভিতর দিয়েও যদি আপনার ভর্তি-কৃত শিক্ষার্থী পালায়ন করে বা না বলিয়া মাদরাসা হইতে বাহির হয়, তাহলে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
৫। আপনার ভর্তি-কৃত শিক্ষার্থী যদি অপরাধের দরুন শাস্তি ভোগ করে থাকে, তাহলে কোনো অভিযোগ করিতে পারিবেন না।
৬। ছুটি ছাড়া কোনো ছাত্র যদি একাধারে ১০ দিন মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকে, তাহলে তার ভর্তি বাতিল বলে গণ্য হবে। পুনরায় ছাত্র হওয়ার জন্য দরখাস্তের মাধ্যমে ভর্তি হওয়া শর্ত।
৭। যদি মাদরাসার বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যা দৃষ্টিগোচর হয়, তাহা হইলে তা মুহতামিম সাহেবকে জানাইতে হইবে। কোনো উস্তাদ বা স্টাফদের সঙ্গে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া যাবে না।
৮। শিক্ষার্থীর মাসিক বেতন বা বোর্ডিংয়ের টাকা ১০ তারিখের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
৯। বন্ধের দিন ও খোলার তারিখে অবশ্যই শিক্ষার্থীকে মাদরাসা হইতে নিয়ে যাবেন বা নিয়ে আসবেন এবং প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার শিক্ষার্থীর সার্বিক খোঁজখবর তার উস্তাদ হইতে জেনে নিতে হবে।
১০। আপনার সন্তানের সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে আপনার ঘরকে গুনাহের পরিবেশ হইতে মুক্ত রাখা একান্তভাবে কাম্য।
একাডেমিক নিয়মাবলী
মোবাইল ও সাক্ষাৎ এর নির্ধারিত সময়:
গ্রীষ্মকালীন: সকাল ৮.৩০ থেকে ৯.০০ ঘটিকা।
দুপুর ২.০০ থেকে ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত।
আসরের পর থেকে মাগরিবের আজানের ২০ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত।
শীতকালীন: সকাল ৯.০০ থেকে ৯.৩০ মিনিট এবং
দুপুর ২.০০ থেকে ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত।
আসরের পর থেকে মাগরিবের আজানের ২০ মিনিট পূর্ব পর্যন্ত।
নিয়মকানুন
০১। আপনার সন্তানের লেখাপড়ার উন্নতি ও চরিত্র গঠন সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানকল্পে মাঝে মধ্যে আপনি তত্ত্বাবধায়ক উস্তাদের সাথে অনুগ্রহপূর্বক যোগাযোগ করুন।
০২। লেখাপড়ার স্বার্থে সাময়িক ছুটি ব্যতীত অনুরোধের ছুটি না নেয়া বাঞ্ছনীয়।
০৩। ক্লাসে উপস্থিতির প্রতি বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখুন। অনুপস্থিতির প্রতিকারের জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন।
০৪। কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ছুটি ব্যতীত অনুপস্থিত থাকলে আপনি নিজে উপস্থিত হয়ে অথবা লিখিত পত্রের মাধ্যমে উপযুক্ত কারণ দর্শানো আপনার নৈতিক দায়িত্ব।
০৫। আপনার সন্তানের শিক্ষা-দীক্ষার দায়িত্ব উস্তাদের উপর ন্যস্ত থাকবে।
০৬। বাড়ীতে থাকাকালীন সময়ে আপনার সন্তানের চলাফেরা ও আমল-আখলাকের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন। টিভি দেখা, অশ্লীল খেলাধুলা এবং অনৈসলামিক আচার-অনুষ্ঠানে যোগদান হতে বিরত রাখবেন।
০৭। কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া বাহিরে গিয়ে হারিয়ে গেলে বা নিজ অপরাধে বিপদগ্রস্ত হলে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
০৮। শিক্ষকের ন্যায়সঙ্গত শাসনের ব্যাপারে কোন ধরনের আপত্তি করা অনুচিত। এ ব্যাপারে আপনার কোন পরামর্শ থাকলে পরিচালকের সঙ্গে পরামর্শে মিলিত হন।
০৯। মাসিক বেতন খানা বাবদ টাকা প্রত্যেক মাসের ১ তারিখ থেকে ৫ তারিখের মধ্যে অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে।
১০। মহিলা অভিভাবকগণ মাদ্রাসায় আসা ঠিক নয়। হঠাৎ অপরাগতা বশতঃ আসতে হলে সম্পূর্ণ শরয়ী পর্দা মেনে এসে দ্রুত কাজ শেষ করে চলে যেতে হবে। খানার ঘরে অথবা বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। এবং মহিলাদের রাতে মাদ্রাসায় প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ।
১১। বাসা থেকে খাবার গ্রহণকারীদের খাবার কোন পুরুষ অথবা ছোট বাচ্চার মাধ্যমে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দিতে হবে।
১২। আপনার সন্তানের পড়াশুনা ও আমল আখলাকের উন্নতির জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যে সব উপায় পদ্ধতি অবলম্বন করেন বুঝে শুনে তাতে একাত্মতা ও সহযোগিতা করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব মনে করবেন।
১৩। আপনার সকল অভিযোগ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে সমাধানের পথ বের করুন। দায়িত্বশীলদের সঙ্গে ঝগড়া বা কৈফিয়ত তলব করা যাবে না।
১৪। ক্লাস চলাকালীন ছাত্র ও উস্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা ও মোবাইল ফোনে কথা বলা সম্পূর্ণ নিষেধ এবং ছাত্রদের সাথে সাক্ষাতের নির্ধারিত সময়ের প্রতি খেয়াল রাখা আবশ্যক।
১৫। অভিভাবকের কোন অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নেগরান উস্তাদের নিকট কৈফিয়ত তলব করা যাবে না। বরং মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষকে অবগত করালে তারা যে সিদ্ধান্ত দেন তা সানন্দে মেনে নিতে হবে।
১৬। পড়ালেখায় ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী যে কোন বস্তু যেমন: মোবাইল ফোন, এমপিফোর, এমপি-থ্রি, ভিডিও-গেইমস, গল্প উপন্যাসের বই ইত্যাদি রাখা যাবে না। এ সকল বস্তু কারো কাছে পাওয়া গেলে তাকে বহিষ্কার করা হবে।
আমি উপরোক্ত সকল শর্তাবলীতে একমত।